a
Sorry, no posts matched your criteria.
My Bookmarks
  • No bookmark found
Image Alt
 • চুলের যত্ন  • শীতকালীন চুলের যত্ন: শুষ্ক চুলের জন্য ডিপ কন্ডিশনিং ও অয়েল রুটিন
deep conditioning

শীতকালীন চুলের যত্ন: শুষ্ক চুলের জন্য ডিপ কন্ডিশনিং ও অয়েল রুটিন

Bookmark CFL(0)
  •  শুষ্ক চুলের জন্য একদম গোড়া পর্যন্ত ডিপ কন্ডিশনিং ।
  • শীতে চুলের যত্নে একটি নিয়মিত রুটিন থাকলে সেটি ত্বকের জন্য অনেক কাজে দেয়।
  • ভালো খাদ্যাভাস, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত চুল ছাটা শুষ্ক চুলের সমস্যা অনেক কমিয়ে দিতে পারে।

 

শীত এসে গেছে এবং এর মধ্যেই আমাদের চুল ও ত্বকের আর্দ্রতার জন্য হাহাকার শুরু হয়ে গেছে। শীতে চুলের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি কারণ এই সময়ে ক্ষতিটা অনেক তীব্র হয় ও দেখাও যায় বেশি। সেজন্য আমাদের চুলের রুটিনেও একটা পরিবর্তন দরকার।

 

সাধারণত, আমরা স্বাস্থ্যকর ও প্রাণবন্ত রুটিনের জন্য পুরো বছরে একটা নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু শীতে সব রকম ত্বকের জন্যই আলাদা যত্নের দরকার হয় সেজন্য হেয়ার কেয়ার রুটিনেও পরিবর্তন আসে। শুষ্ক, নিষ্প্রাণ চুলের ক্ষতি কমানোর জন্য ও চুল পড়া ও খুশকি ঠেকাতে জন্য এ সময় ডিপ কন্ডিশনিংয়ের দরকার হয় । চুল পড়া, খুশকি, রুক্ষ ও ষুক চুল, চুলের আগা ফেটে যাওয়া শীতে সাধারণ কিছু সমস্যা। শুষ্ক চুলের জন্য রুটিন হতে হয় তেল নির্ভর যেটা নিষ্প্রাণ, জট পাকানো চুলের জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করে। যাদের শুষ্ক চুলে জট হয় তারাই শুধু সকালে চুলের জট ছাড়ানো  ও চুল পড়ে যাওয়া কতটা কষ্টকর সেটা টের পায়। শুষ্ক চুল ও স্কাল্প প্রতিরোধ করতে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলা যেতে পারে।

 

১) শুষ্ক চুলের জন্য দরকার চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ডিপ কন্ডিশনিং। সেজন্য রুম হিটার থেকে চুল দূরে রাখতে হবে কারণ এটা স্কাল্প থেকে আর্দ্রতা শুষে নিতে পারে ও স্কাল্পকে পানিশূন্য করতে পারে। সেজন্য যত বেশি সম্ভব হিটার বর্জন করা উচিত। এটা চুলের জন্য খারাপ তো বটেই, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্যও খারাপ। 

 

২) সেই সঙ্গে দ্রুত সমাধানের জন্য অনেকের হেয়ারড্রায়ার ব্যবহার করার একটা প্রবণতা আছে যেটা শুষ্ক, নিষ্প্রাণ ও রুক্ষ চুলের জন্য সমানভাবে দায়ী।সেজন্য হেয়ার ড্রায়ার, হেয়ার স্ট্রেইটেনার, হেয়ার কার্লারস, ব্লো ড্রায়ারের মতো জিনিস এড়িয়ে চুলকে একটু স্বস্তিতে থাকতে দেওয়া উচিত।

 

৩) চুলের যত্নে একটা হেয়ার অয়েল রুটিন থাকাটা ভালো। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় নারিকেল তেল। এটা সবখানেই পাওয়া যায় আবার সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। সেজন্য সম্ভাব্য সেরা ফল পেতে এই ম্যাজিক উপাদানটি আপনার স্বাস্থ্যকর চুলের রুটিনে যোগ করুন।

 

৪) কিছু কিছু লোকের স্কাল্পটা একটু তৈলাক্ত হয় এবং শীতে তারা ঠিক করতে পারে না কী ব্যবহার করবে। তেল সাধারণত স্কালকে তৈলাক্ত করে না বরং শুষ্ক স্কাল্পে তেল দিয়ে মাসাজ করলে রক্ত সঞ্চয়ালন ও শুষ্ক ত্বক থেকে রক্ষার জন্য ভালো কাজে দেয়। সেজন্য আপনার প্রতিদিনের চুলের যত্নে তেল ব্যবহার করুন।

৫) সবচেয়ে ভালো ফলের জন্য শ্যাম্পু করার এক ঘণ্টা আগে চুলে নারিকেল তেল দিন।

 

আপনি যদি অনেক ব্যস্ত হন এবং অয়েল মাসাজের ও চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য মতো যথেষ্ট সময় আপনার না থাকে, তাহলে আপনার জন্য একটা সমাধান আছে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুলে তেল দিন ও সারা রাত সেই তেলটা আপনার চুলের শুষে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন। কিন্তু মনে রাখবেন প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু করবেন না, সেটা আপনার চুলে যত বেশি খুশকিই থাকুক না কেন। চুলে গরম পানি দেওয়া এবং ভেজা চুল বাঁধলে চুল পড়া ও চুলের ক্ষতি অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে। 

যদিও চুলের এই রুটিন আপাতদৃষ্টিতে শুধু মেয়েদের জন্য প্রযোজ্য বলে মনে হলেও সত্যিটা হচ্ছে এটা ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। মেয়েদের ও ছেলেদের হেয়ার কেয়ার রুটিনে খুব বেশি পার্থক্য নেই এবং তেল দুজনেরই দরকার। যদিও মেয়েদের চুলের গড়ন ও দৈর্ঘ্যের জন্য হেয়ার কেয়ার রুটিন একটু বেশি জটিল হতে পারে।

 

যাদের শুষ্ক স্কাল্প, খুশকি ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলের সমস্যা আছে তাদের জন্য ডিপ কন্ডিশনিং দরকার। এরকম পরিস্থিতির জন্য কেউ সহজেই ঘরের বিভিন্ন রেমেডির ওপর নির্ভর করতে পারে, যেগুলো অনেক আগে থেকেই পরীক্ষিত ও ব্যবহৃত।

 

আমাদের প্রতিদিনকার চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান যুক্ত  করা ও প্রাধান্য দেওয়া উচিত। কারণ বাজারে এমন কিছু হেয়ার প্রোডাক্ট পাওয়া যাতে সালফেট থাকে। এই সালফেট স্কাল্প থেকে পানি শুষে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত চুলও হয় শুষ্ক, নিষ্প্রাণ ও ভঙ্গুর। এখন কিছু ঘরোয়া সমাধান নিয়ে আলোচনা করা যাক।

 

১) শীতে ত্বকের যত্নে এক নম্বর উপায় হচ্ছে স্কাল্পে নারিকেল তেল মাখা। আপনি চাইলে আরও কার্যকর করার জন্য আলমন্ড অয়েল, ভিটামিন ই সহ আরও অনেক কিছু ব্যবহার করতে পারেন।

 

২) এই পার্টটা অপশনাল। আপনি চুলকে ময়েশ্চারাইজ করার জন্য হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন যেটা প্রোটিন ট্রিটমেন্ট হিসেবে ভালো কাজে দেয়। দই, আমলা, নারিকেল কেল ও ডিমের কুসুম নিয়ে মেশান। এরপর সেটা স্কাল্পে দিন, ৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিন ও পানি দিয়ে ভালোমতো ধুয়ে ফেলুন। এরপর একটা মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। দেখুন এটা আপনার চুলে মিরাকল করতে পারবে।

 

৩) এটা এসেছে বিখ্যাত হট টাওয়েল ট্রিটমেন্ট থেকে। চুল ধোয়ার আগে ১৫ মিনিটের জন্য আপনার চুল একটা গরম তোয়ালে দিয়ে মুড়ে রাখুন।আপনার স্কাল্পকে বাষ্পটা শুষে নিতে দিন। এই ট্রিটমেন্ট চুলকে ময়েশ্চারাইজ করতে ও খুশকি কমাতে সাহায্য করবে, যেটা চুল পড়ার জন্য এক নম্বর কারণ।

 

বাসায় ডিপ কন্ডিশনিং তৈলাক্ত স্কাল্প আছে এমন মানুষের জন্য একটু ট্রিকি হতে পারে। আপনি যদি অয়েল মাসাজ না করার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে সামান্য পরিমাণে নন স্টিকি অয়েল ফ্রি কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন।

 

স্বাভাবিক চুল আছে এমন কারও জন্যও শীতকালীন যুলের যত্ন গুরুত্বপুর্ণ। হালকা, চিটচিটেহীন কোনো কন্ডিশনার একই সময়ে চুলকে জটামুক্ত, আর্দ্র ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সেজন্য যে কোনো ধরনের চুলের জন্যই এই রুটিন গুরুত্বপূর্ণ, সেটা ঘন,নহালকা, কালো, সোনালী, লম্বা বা ছোট যেটাই হোক না কেন।যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ সেটা হচ্ছে সঠিক যত্ন ও পুষ্টি। আপনার চুল যদি অস্বাস্থ্যকর হয় তাহলে আপনাকেও রুগ্ন আর অসুখী মনে হবে। চুল এমন একটা রত্ন, একবার হারিয়ে ফেললে আর আগের মতো ফিরে পাবেন না। সেজন্য সঠিক যতনই চুল পড়া রোধ করতে পারে। শীতের জন্য এসব টিপস মেনে চললে আপনার ক্ষতিটা কমিয়ে এনে আগের মতো ঘন কালো চুল ফিরে পাবেন।

 

একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রুটিন, স্বাস্থ্যকর খাবার অভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি খাওয়া, ঠিক পরিমাণে ঘুমানো, প্রতিদিন চুল ছাটা এবং স্টাইলিং করার জন্য বিভিন্ন রুক্ষ কেমিক্যাল ব্যবহার করা বাদ দিলে আপনার চুল হতে পারে স্বাস্থ্যকর, আর্দ্র ও সুন্দর।

 

বহুল আলোচিত প্রশ্ন:

শীতে কীভাবে আপনি ত্বকের যত্ন নিতে পারেন?

  • শীতে বাড়তি যত্ন ও সতর্কতার সাথে ত্বকের যত্ন নিতে হয়।

 

শীতে আপনি কীভাবে চুলে তেল দেবেন?

-জমাট বাঁধা নারিকেল তেল শুকিয়ে নিন ও আস্তে আস্তে স্কাল্পে মাখুন।

 

শীতে কীভাবে চুলের ফ্রিজিনেস ঠেকাবেন?

  • ধূলা, কেমিক্যাল, রঙ, হেয়ার স্ট্রেইটেনার, গরম থেকে দূরে থাকলে এটা ঠেকানো যায়।

শীতে চুলে নারিকেল তেল কি দেওয়া উচিত?

  • শীতে চুলে পুষ্টি যোগানো, কন্ডিশন ও যত্নের জন্য নারিকেল তেল দেওয়া উচিত।

শীতে কেন চুল ফ্ল্যাট হয়ে যায়?

  • শুষ্ক আবহাওয়া ও ধূলোর জন্যই মূলত এটা হয়।

 

শীতে চুল ভেঙে পড়ে কেন?

  • চুলে পুষ্টি, আর্দ্রতার অভাব ও খুশকি-ফ্রিজিনেসের কারণে শীতে চুল ভেঙে যায়।

 

Reference:

https://www.forestessentialsindia.com/blog/how-to-deep-condition-hair-to-recover-dry-lifeless-winter-hair.html

https://thestatesman.com/lifestyle/winter-secrets-strong-healthy-hair-1502824106.html

https://thestatesman.com/lifestyle/winter-secrets-strong-healthy-hair-1502824106.html

 

POST A COMMENT